ভারতে স্বর্ণের প্রিমিয়াম ১০ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চে

সরবরাহ সংকটে ভারতে স্বর্ণের প্রিমিয়াম (সংযোজিত মূল্য) আড়াই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আমদানির ক্ষেত্রে সরকারি জটিলতা এবং অভ্যন্তরীণ কর নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে শীর্ষ ভোক্তা দেশ চীনেও স্বর্ণের চাহিদা বাড়ায় মূল্যবান এ ধাতুর বাজারে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারত সরকার স্বর্ণ ও রুপা আমদানির একটি প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র দিতে দেরি করে। ফলে কয়েক টন স্বর্ণ কাস্টমসে আটকে যায় এবং ব্যাংকগুলো নতুন করে আমদানি বন্ধ করতে বাধ্য হয়। যদিও পরে সরকার সে অনুমতিপত্র ইস্যু করেছে, কিন্তু কর-সংক্রান্ত অস্পষ্টতার কারণে অনেক ব্যাংক এখনো স্বর্ণ আমদানি শুরু করতে পারছে না। ফলে বাজারে সরবরাহের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

মুম্বাইয়ের এক বুলিয়ন ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক মূল্যের ওপর প্রতি আউন্স স্বর্ণে ১৫ ডলার পর্যন্ত বাড়তি প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেও যেখানে বাজারে ডিসকাউন্ট বা ছাড় ছিল, সেখানে এখন চড়া প্রিমিয়াম দিয়ে ব্যবসায়ীদের স্বর্ণ কিনতে হচ্ছে। এদিকে ১৯ এপ্রিল ভারতে অক্ষয় তৃতীয়া উৎসব উদযাপন হলেও এবার স্বর্ণের চাহিদা গতানুগতিক সময়ের চেয়ে বেশ কম ছিল। আহমেদাবাদের এক জুয়েলারি ব্যবসায়ী জানান, উৎসব শেষ হওয়ায় খুচরা বিক্রি কমে গেছে। তবে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার রুপির নিচে নামলে ক্রেতারা আবার বাজারে ফিরতে পারেন। বর্তমানে ভারতে ১০ গ্রাম স্বর্ণ ১ লাখ ৫১ হাজার ২০০ রুপিতে (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ টাকা) কেনাবেচা হচ্ছে।

অন্যদিকে স্বর্ণের শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীনে চাহিদা নতুন করে বাড়ছে। গত সপ্তাহে দেশটিতে প্রতি আউন্সে প্রিমিয়াম ছিল ৩-৬ ডলার, যা এ সপ্তাহে বেড়ে ৯-১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা পতন হলেও আঞ্চলিক বাজারগুলোয় সরবরাহের সীমাবদ্ধতা দামকে প্রভাবিত করছে। হংকং, সিঙ্গাপুর ও জাপানের বাজারেও স্বর্ণের দামে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। মূলত সরবরাহের অনিশ্চয়তা না কাটলে ভারতের বাজারে স্বর্ণের এ বাড়তি দাম কমার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও